আজকে বাংলাদেশে বজ্রপাতে সাত জেলায় ১২ জনের মৃত্যু
আজ, ২৮ এপ্রিল ২০২৫, বাংলাদেশে বজ্রপাতে সাতটি জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসএসটিএফ (সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম)-এর তথ্য অনুযায়ী, বজ্রপাতে নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ। (বজ্রপাত: বাংলাদেশে ৩৮ দিনে ৩৫ কৃষকসহ ৭৪ জনের মৃত্যু)
বজ্রপাতে নিহতদের পরিচয় ও ঘটনা
নিহতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ জন কৃষক, ২ জন জেলে, ২ জন শিশু, ১ জন গৃহিণী এবং ১ জন পথচারী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, জয়পুরহাট, ফেনী, কক্সবাজার, গাইবান্ধা ও নওগাঁ—এই সাতটি জেলায় বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। (বজ্রপাতে ৩৮ দিনে সারা দেশে ৭৪ জনের মৃত্যু, বজ্রপাতে মৃত্যুর ৪৯ শতাংশই কৃষি ক্ষেতে)
নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা
-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাছিহাতা ইউনিয়নে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। তারা ছিলেন দিশু দাস (৫৯) ও রবীন্দ্র দাস (৩৭)। মাছ ধরা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে তারা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান । (ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বজ্রপাতে দুই জেলের মৃত্যু)
-
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বজ্রপাতে মারা গেছেন এক কৃষক। তিনি মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হন।
-
ফেনী, কক্সবাজার, গাইবান্ধা ও নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। (বজ্রপাতে মৃত্যুর ৪৯ শতাংশই কৃষি ক্ষেতে, দেশে আট মাসে বজ্রপাতে ২৯৭ জনের প্রাণহানি | জাতীয়)
বজ্রপাতে মৃত্যুর কারণ ও সচেতনতা
এসএসটিএফ-এর তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বজ্রপাতে ২৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৫২ জন কৃষক, ১৮ জন গরু আনতে গিয়ে, ৫২ জন মাছ ধরার সময়, ২৭ জন ঘরে থাকাকালীন, ১৫ জন রাস্তায় চলাচলের সময়, ১৪ জন শিশু-কিশোর খেলার সময়, ১১ জন আম কুড়ানোর সময়, ৩ জন পাথর তোলার সময় এবং ১ জন গাড়িতে থাকার সময় বজ্রপাতে মারা যান । (বজ্রপাতে মৃত্যুর ৪৯ শতাংশই কৃষি ক্ষেতে)
এসএসটিএফ বজ্রপাতে মৃত্যুরোধে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে: (বজ্রপাতে ৩৮ দিনে সারা দেশে ৭৪ জনের মৃত্যু)
-
পাঠ্যপুস্তকে বজ্রপাত সচেতনতার অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা।
-
গভ ইনফো’র মাধ্যমে ৩০ মিনিট আগেই বজ্রপাতের পূর্বাভাস জানানো।
-
কৃষকসহ জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
-
মাঠে মাঠে শেল্টার সেন্টার স্থাপন।
-
আহতদের ফ্রি চিকিৎসাসেবা প্রদান। (দেশে আট মাসে বজ্রপাতে ২৯৭ জনের প্রাণহানি | জাতীয়)
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, “শুধু সচেতনতার অভাবেই বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। সরকারে পক্ষ থেকে তেমন কোনো কার্যকরী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।” (দেশে আট মাসে বজ্রপাতে ২৯৭ জনের প্রাণহানি | জাতীয়)
কৃষকদের জন্য পরামর্শ
বজ্রপাতে কৃষকদের জীবন রক্ষায় এসএসটিএফ কিছু পরামর্শ দিয়েছে: (বজ্রপাতে ৩৮ দিনে সারা দেশে ৭৪ জনের মৃত্যু)
-
খোলা আকাশের নিচে থাকলে আকাশে কালো মেঘ দেখার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে।
-
বৃষ্টির সময়ে গাছের নিচে অবস্থান না করা।
-
খোলা আকাশের নিচে কাজ করার সময় পায়ে জুতা পরিধান করা এবং বজ্রপাত হলে শুয়ে পড়া। (বজ্রপাতে ৩৮ দিনে সারা দেশে ৭৪ জনের মৃত্যু, দেশে ৩৮ দিনে বজ্রপাতে ৭৪ জনের মৃত্যু, বেশির ভাগই কৃষক |)
এসএসটিএফ-এর প্রতিনিধিরা সম্প্রতি মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন মাঠে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন । (দেশে ৩৮ দিনে বজ্রপাতে ৭৪ জনের মৃত্যু, বেশির ভাগই কৃষক |)
এসএসটিএফ-এর সভাপতি ড. কবিরুল বাশার বলেন, “বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ নয়। নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে হবে বাড়ি বা পাকা স্থাপনা।” (দেশে ৩৮ দিনে বজ্রপাতে ৭৪ জনের মৃত্যু, বেশির ভাগই কৃষক |)
এসএসটিএফ সরকারের কাছে হাওর ও খোলা জায়গায় বজ্রনিরোধ যন্ত্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। (বজ্রপাত: বাংলাদেশে ৩৮ দিনে ৩৫ কৃষকসহ ৭৪ জনের মৃত্যু)
বজ্রপাতে মৃত্যুরোধে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

0 Comments