পরম করুনাময় আল্লাহর নামে শরু করছি । কোন ভুল ত্রুটি থাকলে নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।

আজকের আলোচনা সোনারগাঁ কোথায় অবস্থিত এবং কি জন্য বিখ্যাত ? সোনারগাঁও জাদুঘরে কিভাবে যাবো  ?

সবাই বেশি বেশি লাইক, কমেন্ট, শেয়ার ও সাবস্ক্রাইব করে অনুপ্রেনিত করবেন। সেই সাথে আপনাদের অগ্রিম ধন্যবাদ জানিয়ে শরু করছি ।  

 

 

সোনারগাঁও জাদুঘর

 


সোনারগাঁও ছিল বাংলার মুসলিম শাসকদের অধীনে পূর্ববঙ্গের একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। এর অবস্থান ঢাকা থেকে ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। মধ্যযুগীয় নগরটির যথার্থ অবস্থান নির্দেশ করা কঠিন। বিক্ষিপ্ত নিদর্শনাদি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এটি পূর্বে মেঘনা, পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা, দক্ষিণে ধলেশ্বরী ও উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বেষ্টিত একটি বিস্তৃত জনপদ ছিল



সোনারগাঁও বাংলার ঐতিহাসিক অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন রাজধানী এবং পূর্ব বাংলার একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল। এটি একটি নদী বন্দরও ছিল। তাঁতি ও কারিগরদের বিশাল জনসংখ্যার সাথে বাংলার মসলিন বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল সোনারগাঁও। প্রাচীন গ্রীক ও রোমান বিবরণ অনুসারে, এই পশ্চাদভূমিতে এম্পোরিয়াম বা বাণিজ্যিক কেন্দ্র অবস্থিত ছিল, যা প্রত্নতাত্ত্বিকরা ওয়ারী-বটেশ্বর ধ্বংসাবশেষের সাথে সনাক্ত করেছেন।




 অঞ্চলটি বঙ্গ, সমতট, সেন এবং দেব রাজবংশের একটি ঘাঁটি ছিল

দিল্লি সালতানাতের সময় সোনারগাঁও গুরুত্ব লাভ করে। এটি ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ এবং তার পুত্র ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহ দ্বারা শাসিত সালতানাতের রাজধানী ছিল। এখানে রাজদরবার এবং বাংলা সালতানাতের টাকশাল এবং গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে বঙ্গীয় সালতানাতের রাজধানীও ছিল। এসময় সোনারগাঁও বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদে পরিণত হয়। অনেক অভিবাসী ওই এলাকায় বসতি স্থাপন করে। সুলতানরা মসজিদ ও সমাধি নির্মাণ করেন। পরে এটি বারো-ভূঁইয়ার ঈসা খান এবং তার পুত্র মুসা খানের নেতৃত্বে মুঘল সম্প্রসারণকে প্রতিহত করেছিল। বারো ভূইয়াদের পরাজয়ের পর সোনারগাঁও মুঘল সুবাহ বাংলার একটি জেলায় পরিণত হয়।ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে, বণিকরা পানাম পাড়ায় অনেকগুল ইন্দো-সারাসেনিক টাউনহাউস তৈরি করেছিল। 

১৮৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত নিকটবর্তী নারায়ণগঞ্জ বন্দরের মাধ্যমে এর গুরুত্ব শেষ হয়ে যায়ঐতিহাসিক গুরুত্ব কররানী রাজবংশ এর প্রথম নবাব তাজ খান কররানী এর সময়কালে এটি ছিল সাম্রাজ্যের রাজধানীউল্লেখযোগ্য নিদর্শনঈশা খাঁর রাজধানী ছিল ঈশা খাঁর স্ত্রী সোনাবিবির নামে সোনারগাঁও এর নামকরণ করা হয়


সোনারগাঁ জাদুঘরে  কিভাবে যাবেন ? 

সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে যেতে হলে আপনাকে ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসযোগে মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে, সেখান থেকে রিকশা বা সিএনজি ভাড়ায় জাদুঘরে যাওয়া যাবে 

যাতায়াত পদ্ধতি:  ঢাকা থেকে: ঢাকার গুলিস্তান বা অন্যান্য বাস স্টপ থেকে সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে বাস (যেমন - বোরাক এসি বাস) ধরতে পারেন। ভাড়া সাধারণত ২৫-৬০ টাকার মধ্যে থাকে এবং সময় লাগে ১ থেকে ১.৫ ঘন্টা

 ২. মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা থেকে: বাসে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় নামার পর, সেখান থেকে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর পর্যন্ত যেতে রিকশা বা সিএনজি (অটো রিকশা) নিতে পারেন। ভাড়া সাধারণত ১০-২০ টাকা হয়ে থাকে 

৩. নদী পথে (ঐচ্ছিক): মেঘনা নদীপথে বৈদ্যের বাজার লঞ্চঘাট হয়েও সোনারগাঁও জাদুঘরে যাওয়া যেতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে লঞ্চ থেকে নেমে রিকশা বা সিএনজি নিতে হবে

 কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: সোনারগাঁও জাদুঘর সাধারণত বুধবার ও বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে, তবে কর্তৃপক্ষ বুধবার অর্ধেক খোলা রাখতে পারে জাদুঘরের প্রবেশ ফি জনপ্রতি ৫০ টাকা জাদুঘরের কাছাকাছি পানাম নগরী অবস্থিত, যা ঘুরে দেখার জন্য একটি চমৎকার জায়গাএখানে সোনাবিবির মাজার, পাঁচ পীরের মাজার, গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের সমাধি, ইব্রাহীম দানিশমান্দ-এর দরগা ইত্যাদি নানারকম স্থাপনা রয়েছেসোনারগাঁও-এ শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর অবস্থিতপানাম নগর - এই এলাকাটি ১৯শ শতকে সোনারগাঁওয়ের উচ্চবিত্ত ব্যবসায়ীদের বাসস্থান ছিলো। এখানে মসলিন কাপড় ব্যবসায়ীরা বাস করতেন। এখানকার সুদৃশ্য বাড়িগুলো এখন ধ্বংসের মুখে রয়েছেআজকের ভিডিও এই পর্যন্তই। ভালো থাকেন সুস্থ্য থাকুন দোয়া ও শুভ কামনা রইলো আপনাদের । আল্লাহ হাফেজ।